কি করে বুঝবো গল্পের প্রশ্নের উত্তর

কি করে বুঝবো গল্পের প্রশ্নের উত্তর

শিক্ষালয় ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কি করে বুঝবো গল্পের প্রশ্নের উত্তর’ প্রদান করা হলো। শিক্ষার্থীরা এই ‘কি করে বুঝবো গল্পের প্রশ্নের উত্তর’ সমাধান করলে তাদের পরীক্ষায় বিশেষ সহায়তা লাভ করবে।

শিক্ষালয় ওয়েবসাইটের সকল প্রকার আপডেট লাভ করতে মোবাইল স্ক্রিনের বা’দিকের নিম্নের অংশে থাকা বেল আইকনটিতে (🔔) টাচ করে শিক্ষালয় ওয়েবসাইটের নোটিফিকেশন অন করে রাখুন। 

কি করে বুঝবো গল্পের প্রশ্নের উত্তরঃ 

১) আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।

উঃ ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ এবং ‘সুবর্ণলতা’।

২) আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য কোন্ কোন্ বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন?

উঃ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার, লীলা পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, অকাদেমি পুরস্কার, সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি পেয়েছেন।

৩) বুকু কোথায় বসে খেলা করছিল? 

উঃ বুকু তাদের বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলা করছিল।

৪) রিকশা থেকে কারা নামলেন?

উঃ রিক্সা থেকে নামলেন বুকুর মা’র ছেনুমাসি এবং বেণুমাসি ও বুকুর বয়সি একটি ছেলে ‘ডাম্বল’।

৫) ডাম্বল আলমারি ভেঙে কার বই নামিয়েছিল?

উঃ ডাম্বল আলমারি ভেঙে বুকুর সেজোকাকার বই নামিয়েছিল।

৬) বুকুর মার কী কেনা ছিল?

উঃ বুকুর মা-র সিনেমার টিকিট কেনা ছিল।

৭) বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্যে কী কী খাবার নিয়ে আসে?

উঃ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা চা, বড়ো বড়ো রাজভোগ, ভালো ভালো সন্দেশ, শিঙাড়া, নিমকি প্রভৃতি খাবার অতিথিদের জন্য নিয়ে এসেছিলেন।

৮) বুকু কোন্ স্কুলে ভরতি হয়েছিল?

উঃ বুকু আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুলে ভরতি হয়েছিল।

৯) বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় কেন?

উঃ বুকু তাদের বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলছিল। খেলতে খেলতে সে দেখল যে, একটি রিকশা তাদের বাড়ির সামনে এসে থামল আর তা থেকে নেমে এলেন দুজন অত্যন্ত মোটাসোটা ভদ্রমহিলা এবং বুকুর বয়সি একটি মোটা ছেলে। রিকশা গাড়ির অতটুকু খোলের মধ্যে এদের জায়গা হয়েছিল কী করে এই কথা ভেবেই বুকু অবাক হয়েছিল।

১০) ‘সিঁড়ি ভেঙে আর উঠতে পারব না বাবা’—কারা একথা বলেছেন? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবে না কেন?

উঃ একথা বলেছেন বুকুর মা’র ছেনুমাসি ও বেণুমাসি।।তাঁদের শরীর ছিল স্থূলকায়। তাঁরা উত্তরপাড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে দুই-তিনবার বাসবদল করে শেষ অবধি রিকশায় চেপে ভবানীপুরের পৌঁছে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তারা যখন শুনলেন বুকুর মা তিনতলায় ছাদের রান্না ঘরে আছে, তখন সিঁড়ি ভেঙে পরিশ্রম করে তাঁরা ওপরে উঠতে চান না বলে জানিয়েছিলেন।

১১) ‘ও কী! কী কাণ্ড করেছ তুমি’—কে কী কাণ্ড করেছে? 

উঃ বেণুমাসির ছেলে ডাম্বল কে একথা বলেছে বুকু। কারণ সে চেয়ারে গুছিয়ে বসার বদলে একখানা চেয়ার কনুইয়ের ধাক্কায় উলটেছে। টেবিল-ঢাকাটা কুঁচকে টেনে খানিকটা ঝুলিয়ে দিয়েছে। টেবিলের ওপরের খাতাপত্তরগুলো এলোমেলো করেছে। দেয়ালে রাখা আলমারিটার একটা পাল্লা ধরে এমন হ্যাঁচকা টান মেরেছে যে, চাবিবন্ধ কলটা বন্ধ অবস্থাতেই পাল্লার সঙ্গে খুলে বেরিয়ে এসেছে। সাজানো গোছানো বইয়ের সারি থেকে কয়েকটা বই নামিয়ে দুর ছাই! ছবি নেই বলে বইগুলো মাটিতে ফেলে, সে জানালার ওপর পা দোলাতে শুরু করেছিল। বুকুর সেজোকাকা রাগী মানুষ। তাঁর বইগুলো মাটিতে ছড়ানো দেখে বুকু ডাম্বলকে এই কথা বলেছিল।

১২) বুকু অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?

উঃ বুকুর মা নির্মলা তাঁর মাসিদের আগমনের সংবাদ পেয়ে নীচে নেমে এসে এসে তাঁদের অভ্যর্থনা শুরু করেছিলেন। মা বলেছিলেন যে মাসিরা বেড়াতে আসায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন, মা আরও বলেছিলেন যে তার তো মনে হয়েছিল মাসিরা বুঝি তাকে ভুলেই গেছেন। অথচ একটু আগে তিনি বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন অসময়ে লোক আসা তাঁর ভালো লাগে না। অথচ মা তাঁর মাসিদের দেখে বলছে ভালো লাগছে। অল্প সময়ের মধ্যেই মায়ের মুখে এই দুরকম কথা শুনে বুকু অবাক হয়ে মায়ের মুখের দিকে ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়েছিল।

১৩) ‘ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত।’—ছেলের কথা শুনে বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো কেন?

উঃ বুকু তার মাকে যখন তাঁর মাসিদের আসার খবর জানিয়েছিল তখন তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন এবং বুকুর সামনেই।বলেছিলেন যে অসময়ে অতিথি আসা তার একেবারেই ভালো লাগে না। অথচ পরে সেই মাসিদের সামনে নিজের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে সামাজিক ভদ্রতা দেখিয়ে তাদের আসায় খুব আনন্দ পেয়েছেন তা বলেছিলেন। বুকু এতে আশ্চর্য হয়ে অতিথিদের সামনে মায়ের বিরক্ত প্রকাশের কথা জানিয়ে দিয়েছিল। অতিথিদের সামনে ছেলের এই কথায় অপদস্থ হয়ে বুকুর মায়ের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হয়েছে বলে মনে হয়েছিল।

১৪) ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি কেন?

উঃ ডাম্বলের কথা অনুযায়ী তার বাবা হাড়কেপ্পন! সাত বছরের ছেলের ইস্কুলের মাইনে সাত টাকা তাঁর কাছে ছিল।খুব বেশি, এই টাকা তিনি খরচ করতে পারবেন না। তাই ডাম্বলকে স্কুলে ভরতি করা হয়নি। ডাম্বলের বাবার মতে ছেলের পড়ে দরকার নেই, ছেলে চাষবাস করে খাবে।

১৫) ‘কেজানে পাগলা-টাগলা হয়ে যাবে নাকি।’— কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে? এমন সন্দেহের কারণ কী ?

উঃ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকু সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

ভাম্বল আলমারি ভেঙে সেজোকাকার বই মাটিতে ফেলে দিয়েছিল। তাই দেখে বুকু বলেছিল যেমন হাতির মতো দেখতে, তেমনি হাতির মতো বুদ্ধি। সেজোকাকা তোমার পিঠের ছাল তুলবেন। এছাড়া সে মায়ের আড়ালে বলা কথাগুলি অতিথিদের সামনে ফাঁস করে দিয়ে মাকে অপদস্থ করেছিল—এইসব কথা বেণুমাসির মুখে শুনে, বুকুর মা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার জন্য তিনি লজ্জা পেয়ে কাঁদো কাঁদো ভাবে মাসিদের বলেন যে ছেলেকে নিয়ে তার অনেক জ্বালা। যেভাবে অপ্রিয় সত্য কথাগুলো সবার সামনে বুকু বাবা মায়ের সম্পর্কে বলে চলেছিল তাতে তাঁর সম্মান ধুলোয় মিশে যাচ্ছিল। তাই বুকু সম্বন্ধে তার মায়ের সন্দেহ হতে থাকে। তিনি বুঝতেই পারছিলেন না ছেলে পাগল হয়ে যাবে কি না।

১৬) ‘দুজনে মিলে চেঁচান, বল বল কেন ওসব বললি।’—বুকু কেন ওসব বলেছিল?

উঃ বুকু অতিধিদের সামনে মা-বাবার চরিত্রগুলো তুলে ধরেছিল খোলা মনে, কারণ দুপুরেই তার মা তাকে একশোবার করে বলেছিল—সবসময় সত্যি কথা বলবি, কারো কাছে কিছু লুকোবি না—সেটা বিশ্বাস করেই ছোটো বুকু।সরলমনে মায়ের উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল। সে এই কথাগুলোর ভালোমন্দ কিছুই বুঝতে পারে নি। সে ভেবেছিল সত্য কথাগুলো বলে দিলে মা বোধহয় খুশি হবে। তাই বুকু ওসব কথা মাকে বলেছিল।

১৭) গল্পে বুকুর আচরণ তাঁর মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল— বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?

উঃ বড়োদের সামনে এসে ছোটোদের কথা বলা বিশেষ করে বুকুর অতিরিক্ত কথা বলা সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ সৌজন্যের সীমা বুকু ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে তার মা-বাবাকে অপদস্ত হতে হয়েছিল।

বুকুর এই আচরণ ও অতিরিক্ত কথা বলায় মনে হতে পারে যে সে বুঝি একটা বেয়াড়া ছেলে। কিন্তু বুকুর তেমন দোষ ছিল না। সবসময় খুব কাছ থেকে সে মা-বাবার আচরণ লক্ষ্য করেছে। তাছাড়া সেদিনই দুপুরবেলা মায়ের কাছে সে শিখেছিল সবসময়

সত্যকথা বলতে হয়, কাউকে কিছু নেই। বুকু তার শিশুসুলভ বুদ্ধির দ্বারা এই কথার উপর বিশ্বাস করে এমন আচরণ করেছিল। সে ছোটো বয়সে কথার ভালোমন্দ বোঝার বয়স তার হয়নি। সে ভেবেছিল মায়ের সামনে সত্যি কথা মা বোধহয় খুশি হবেন। বললে তাই সে এমন আচরণ করেছিল।

শিক্ষালয় ওয়েবসাইটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক নিম্নে প্রদান করা হলোঃ

শিক্ষালয়ের সাথে ফেসবুকে যুক্ত হতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবেঃ  sikkhalaya

You cannot copy content of this page